হঠাৎ চড়া ডলারের দাম

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আপাতত খোলাবাজারে দাম বাড়ছে। আবার রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের সুবিধা দিতে সামনে ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সংকট না থাকলেও খোলাবাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে। আবার চাহিদাও অনেক। এ কারণে গত বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা।

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আপাতত খোলাবাজারে দাম বাড়ছে। আবার রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের সুবিধা দিতে সামনে ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সংকট না থাকলেও খোলাবাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে। আবার চাহিদাও অনেক। এ কারণে গত বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান সময় বার্তাকে

 বলেন, বেসরকারি অনেক বড় আমদানির দায় পরিশোধ হচ্ছে। এ কারণে অনেককে খোলাবাজার থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। তবে খোলাবাজারে সরবরাহ তেমন নেই। এতে দাম বেড়ে গেছে।

তবে ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকের বাইরে বড় অঙ্কের টাকা মজুত রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ঘিরে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তাতে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। আবার অনেকে দেশে থাকলেও টাকা পরিবর্তন করে ডলার করে রাখছেন। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ লোকই খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন। কারণ, ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গেলে তার জন্য নানা কাগজপত্র লাগে। কিন্তু খোলাবাজার থেকে সহজে টাকা দিয়ে ডলার কেনা যায়। এ পরিস্থিতিতে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী সরবরাহ নেই। এ কারণেই চাপ বেড়ে গেছে।

হঠাৎ করে খোলাবাজারে ডলারের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে
তাতে বেড়ে গেছে দাম

খোলাবাজারে ডলার আসে মূলত বিদেশফেরতদের কাছ থেকে। তাঁরা দেশে যে ডলার নিয়ে আসেন, তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেন। মানি চেঞ্জারগুলোও বিদেশফেরত লোকজনের কাছ থেকে ডলার কিনে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখনো ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার লেনদেন করছে। এই দরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ১৩ কোটি ডলার, ২৪ সেপ্টেম্বর ১৫ কোটি ডলার, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৩ কোটি ডলার, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ কোটি ডলার কেনাবেচা করে। গত বৃহস্পতিবারও ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ব্যাংকগুলো ডলার কেনাবেচা করেছে।

তবে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক আমদানি ব্যয় পরিশোধের জন্য (বিল সেলিং রেট) প্রতি ডলারের দাম দেয় ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সা। সেদিন ব্যাংকটি নগদে প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

গত মঙ্গলবার মতিঝিলের মানি চেঞ্জার থেকে ৮৭ টাকা দরে ডলার কিনেছেন যুক্তরাষ্ট্রগামী লিয়াকত আলি। তিনি সময় বার্তাকে বলেন, এত দামে আগে কখনো তিনি ডলার কেনেননি। আগে সর্বোচ্চ প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা দিয়েছেন।

ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারের লেনদেনও পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুরো জুলাই মাসে প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা দরে বিক্রি হয়। আগস্টে তা বেড়ে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত হয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কোনো কোনো দিনে প্রতি ডলার ৮৭ টাকায়ও বিক্রি করে মানি চেঞ্জারগুলো।

জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সময় বার্তাকে  বলেন, আমদানি চাপ থাকায় হঠাৎ করে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। অনেককে বাজার থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাবই পড়েছে দামের ওপর।

এদিকে ব্যাংকগুলোতে এখনো ডলারের তেমন চাপ নেই। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না। সাধারণত ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে চাহিদা তৈরি হলে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছে ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার ডলার কিনতে হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে ১৯ হাজার ৪৯ কোটি টাকার ডলার কিনতে হয়েছিল। গত জুলাই মাসে বিক্রি করে ৩ কোটি ৬০ ডলার, আগস্টে বিক্রি করে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে কোনো ডলার বিক্রি করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবার ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত ডলার সংরক্ষণ আছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যাচ্ছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকগুলোর কাছে ৮৫ কোটি ডলার ও ২৯ সেপ্টেম্বর ৯২ কোটি ডলার ছিল। এদিকে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা অতিক্রম করে আছে সোনালী ও
জনতা ব্যাংক। এর মধ্যে জনতা ব্যাংক ক্রিসেন্ট কেলেঙ্কারির জন্য ও সোনালী ব্যাংক লন্ডন শাখার অনিয়মের কারণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *